রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের দ্বিতীয় চুল্লির (ফার্নেস-২) উৎপাদন কার্যক্রম ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট থেকে অস্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিটির ওই বছরের ৩৬০তম পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি লোকসান এড়াতে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে চুল্লি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উসমানিয়া গ্লাসের পর্ষদ।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৩ টাকা ২ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৯২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ৭৩ পয়সায়।
ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ২১ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভার আহ্বান করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ নভেম্বর।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি উসমানিয়া গ্লাসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৯৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকা ৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি উসমানিয়া গ্লাসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৯৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৬৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৬ টাকা ৯৭ পয়সায়।
১৯৮৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উসমানিয়া গ্লাসের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৭ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১০৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৯০০। এর ৫১ শতাংশ রয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকরী ১৪ দশমিক ৪৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩২ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।